× CART

No item in cart.

বুলুগুল মারাম

পরিচ্ছদঃ ১ | হাদিসের বিষয়: পবিত্রতা

১/১: সাগর বা সমুদ্রের পানি পবিত্র

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং তার মৃত প্রাণী হালাল। চারজন এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। শব্দ বিন্যাস আবূ শাইবার, ইবনু খুযাইমাহ ও তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ্‌ বলেছেন। ইমাম মালিক, শাফি‘ঈ ও আহমাদ বিন্‌ হাম্বালও এটি বর্ণনা করেছেন। [১]

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فِي الْبَحْرِ: «هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ» أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ، وَابْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَاللَّفْظُ لَهُ (1)، وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ وَالتِّرْمِذِيُّ

[১] আবূ দাঊদ ৮৩, নাসায়ী ১/৫০, ১৭৬, ৭০৭ তিরমিযী ৬৯, ইবনু মাযাহ ৩৮৬, ইবনু আবী শায়বাহ ১৩১, ইবনু খুযাইমাহ ১১১ । সফওয়ান বিন সুলাইম সূত্রে; তিনি আলে বানী আযরাক এর সাঈদ বিন সালামাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে, তিনি বানী আব্দুল দ্বার এর মুগীরাহ বিন আবূ বুরদাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি আবূ হুরায়রাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন, এক ব্যাক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা সমুদ্রে বিচরণ করি, আর আমাদের সাথে অল্প পরিমান পানি নিয়ে যাই, ফলে আমরা যদি এই পানি দিয়ে অযু করি তাহলে আমাদের খাবার পানির পিপাসায় ভোগার আশংকা রয়েছে। সুতরাং আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করতে পারি? অতঃপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ উক্তি করেন। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন, এই সনদ সহীহ। কেউ আবার এতে ত্রুটি আছে বলে মন্তব্য করলেও তাতে কোন ক্ষতি নেই, কেননা হাদীসটির কয়েকটি শাহেদ (সমর্থক) হাদীস রয়েছে।

বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

১/২: পানির মূল পবিত্র অবস্থায় বহাল থাকা

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘নিশ্চয়ই পানি পবিত্র জিনিস, কোন কিছুই তাকে অপবিত্র করতে পারে না।’-৩ জনে; [২] আহমাদ একে সহীহ্‌ বলেছেন। [৩]

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ» أَخْرَجَهُ الثَّلَاثَةُ، وَصَحَّحَهُ أَحْمَدُ

[২] আবূ দাঊদ ৬৬, নাসায়ী ১৭৪, তিরমযী ৬৬। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলা হলো, আমরা কি বুযা’আহ নামক কূপের পানি দিয়ে ওযূ করতে পারি? আর ঐ কূপটি এমন ছিল যে, তাতে হায়েযের নেকড়া, কুকুরের গোশ্‌ত এবং অন্যান্য ময়লা আবর্জনা ফেলা হতো। অতঃপর রাসূল এ হাদীস বর্ণনা করেন। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা বলেন, হাদীসটি বিশুদ্ধ, যদিও একজন রাবী অস্পষ্টতার কারণে হাদীসটিকে ত্রুটিযুক্ত বলা হয়েছে। কিন্তু এর অন্য একটি সনদ ও কয়েকটি শাহেদ রয়েছে যা হাদীসটি বিশুদ্ধ হাদীসের পরিণত করছে। বিঃ দ্রঃ হাদীসের কথা – “ (আরবী)” বিষয়ে ইমাম খাত্তাবী তাঁর মা’আলিমুস সুনান (১/৩৭) গ্রন্থে বলেন, এ হাদীস শ্রবণ করে অনেকের মনে এ ধারণা জন্মাতে পারে যে, তারা এ কাজটি ইচ্ছাকৃতভাবে করতো। তাদের সম্পর্কে এমন মন্দ ধারণা জায়েজ নয়; বিশেষ করে মুসলিমদের ক্ষেত্রে আরো নয়। তাছাড়া এমন (নোংরা) স্বভাব পূর্বেকার বা বর্তমানকালের কোন মানুষের সে মুসলিম হক বা কাফির হোক এমন (নোংরা) স্বভাব হতে পারে না। বরং তারা পানিকে সব সময় পবিত্র, পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতেন। অতএব এমন যুগের লোকদের সম্বন্ধে এমন ধারণা কিভাবে করা যায় অথচ তারা দ্বীনের অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে ব্যক্তিত্ব এবং মুসলমানদের সবচেয়ে সন্মানিত দল! তাছাড়া সেদেশে পানি দুষ্প্রাপ্য অথচ তার প্রয়োজন নিতান্তই বেশি। তা সত্ত্বেও পানির সাথে এমন আচরণ কি অত্যন্ত কঠিন কথা নয়!? এদিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পানির ঘাট এবং নালায় মলমূত্র ত্যাগকারীর উপর লানত করেছেন। তাহলে কি করে তারা পানির কূপ ও নালাসমূহকে ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট করতে পারে; আর তাতে ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ করা হতে পারে? এমন আচরণ তাদের জন্য মোটেই মানানসই নয়। হ্যাঁ বিষয়টি এমন হতে পারে যে, ঐ কূপটি কোন মধ্যবর্তী স্থানে ছিল এবং পানির প্রবাহ রাস্তা ও ময়লা ফেলার স্থানের বর্জ্যকে ভাসিয়ে নিয়ে উক্ত কূপে নিক্ষেপ করতো। আর তাতে পানির পরিমাণ খুব বেশি হওয়ায় তাতে কোন প্রভাব পড়তো না এবং পানির স্বাভাবিক বৈশিষ্টের কোন পরিবর্তন করতো না।

[৩] এ বিষয়টি ইমাম মুনজিরী তার ‘মুখতাসার’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

বর্ণনাকারীঃ আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

১/৩: নাপাক বা ময়লা মিশ্রিত পানির বিধান

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “নিশ্চয় পানিকে কোন কিছু অপবিত্র করতে পারে না তবে যা তার ঘ্রাণ, স্বাদ ও রঙকে পরিবর্তন করে দেয়।” – ইবনু মাজাহ, [৪] আবূ হাতিম এটিকে য’ঈফ বলেছেন। তবে হাদিসের প্রথম অংশ সহিহ [৫]

وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِنَّ الْمَاءَ لَا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ، إِلَّا مَا غَلَبَ عَلَى رِيحِهِ وَطَعْمِهِ وَلَوْنِهِ» أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ وَضَعَّفَهُ أَبُو حَاتِمٍ

[৪] যঈফ, ইবনু মাযাহ ৫২১-রুশদাইন বিন সা’দ সূত্রে। মুয়াবিয়াহ বিন সালিহ রাশিদ বিন সা‘দ থেকে, তিনি আবূ উমামাহ হতে। তিনি দুর্বল, আবূ রুশদাইদ এর দুর্বলতার কারণে। তাছাড়া হাদীসের সনদে ইজতিরাব-এর সমস্যা রয়েছে।

[৫] তাঁর ছেলে ‘ইলাল’ গ্রন্থে (১/৪৪) বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ আমার পিতা বলেছেন যে, রুশদাইদ বিন সা‘দ হাদীসটিকে আবূ উমামাহ সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মুত্তাছিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু রুশদাইন শক্তিশালী রাবী নয়। সঠিক কথা এই যে, হাদীসটি মুরসাল।

বর্ণনাকারীঃ আবূ উমামাহ বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ

১/৪: নাপাক বা ময়লা মিশ্রিত পানির বিধান

বাইহাকীতে রয়েছে “পানি পবিত্র তবে কোন নাজাসাত (অপবিত্র বস্তু) পড়ার কারণে পানির ঘ্রাণ, স্বাদ ও রঙকে নষ্ট ও পরিবর্তন হলে সেই পানি অপবিত্র হয়ে যাবে।” [৬]

وَلِلْبَيْهَقِيِّ: «الْمَاءُ طَهُورٌ (1) إِلَّا إِنْ تَغَيَّرَ رِيحُهُ، أَوْ طَعْمُهُ، أَوْ لَوْنُهُ; بِنَجَاسَةٍ تَحْدُثُ فِيهِ»

[৬] যঈফ। বায়হাক্বী তাঁর ‘আস্‌-সুনানুল কুবরা’য় (১৫৯-২৬০) আবূ উমামাহ হতে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে বাকিয়াহ বিন ওয়ালীদ নামক একজন রাবী আছেন যিনি মুদাল্লিস। আর তিনি ‘আনআন’ শব্দেও বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের অন্য একটি সনদ রয়েছে, সেটিও দুর্বল।

বর্ণনাকারীঃ বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ

১/৫: কী পরিমাণ পানি অপবিত্র হবে; আর কী পরিমান পানি অপবিত্র হবে না

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘পানির পরিমাণ যদি দু’কুল্লা (কুল্লা হচ্ছে বড় আকারের মাটির পাত্র বিশেষ যাতে প্রায় একশত তের কেজি পানি আটে।) (মটকা) হয় তবে তার মধ্যে কোন অপবিত্র বস্তু পড়লে তা না-পাক হবে না।’

(চারজনে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনু খুযাইমাহ ও ইবনু হিব্বান এক সহীহ বলেছেন।) [৭]

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم -: «إِذَا كَانَ الْمَاءُ قُلَّتَيْنِ لَمْ يَحْمِلِ الْخَبَثَ»، وَفِي لَفْظٍ: «لَمْ يَنْجُسْ» أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُ، وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ وَابْنُ حِبَّانَ

[৭] আবূ দাঊদ (৬৩,৬৪,৬৫); নাসায়ী (১/৬৪,১৭৫); তিরমিযী (৬৭); ইবনু মাযাহ (৫১৭)। হাদিসটি সহীহ। কিছু দোষ বর্ণনা করা হলেও তা ক্ষতিকর নয়। ইবনু খুযিমাহ (৯২); হাকিম (১৩২); ইবনু হিব্বান (১২৪৯) প্রমুখ হাদিসটি সহীহ বলেছেন।

বর্ণনাকারীঃ ‘আবদুল্লাহ বিন ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

Showing 1 - 5 of 151 Hadiths
//
TOP